শাড়ির যত্ন

সুতি শাড়ির যত্ন

 

বাঙালি নারীর সাজ শাড়িতেই পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যে শাড়ি নারীকে সুন্দর বানায় সেই শাড়িরও তো যথোপযুক্ত সম্মান থুড়ি শাড়ির যত্ন দরকার। শাড়ি শুধু পরলেই হবে না, তার পাশাপাশি নেয়া উচিত শাড়ির সঠিক যত্ন। সঠিক যত্নের অভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে আপনার শখের শাড়িটি। আর নির্দিষ্ট সময় পরপর শাড়ির যত্ন নিলে বছরের পর বছর নতুন রাখা যায়। এমনকি শাড়ির ভাঁজের ওপরও শাড়ির সৌন্দর্য অনেকাংশে নিভর করে।

অনেকদিন ধরেই সুতির শাড়ির বেশ একটা অভিজাত ভাব আছে। কিন্তু এই শাড়ির মাড় ধুয়ে গেলেই ম্যাড়মেড়ে হয়ে যায়। তখন শাড়িটিকে একটা ন্যাতার মতো হয়ে যায়।

তাই সুতির শাড়ির রঙ যাতে বজায় থাকে এবং কাপড় যাতে একেবারে কড়কড়ে থাকে সেই দিকে নজর রাখা খুব জরুরি।

সুতির শাড়ির যত্নঃ

১. যেখানে কাপড় রাখবেন সেই জায়গাটি অবশ্যই শুকনো হতে হবে, না হলে ছত্রাক সংক্রমণের ভয় থাকে। শাড়ির ভাঁজে ন্যাপথলিন, কালোজিরা, নিমপাতা ইত্যাদি দিয়ে রাখুন, এতে পোকায় কাটবে না।

২. যেহেতু এই শাড়ি বাড়িতেই ধুয়ে ফেলা যায় তাই প্রথম বার যখন শাড়ি ধোবার সময় উষ্ণ গরম জল ব্যবহার করবেন। এই উষ্ণ গরম জলে খানিকটা বিট লবণ মিশিয়ে নিয়ে ১৫-২০ মিনিট সুতির শাড়িটি ভিজিয়ে রাখুন।এতে শাড়ির রঙটি একেবারে পাকা থাকবে। পরবর্তীকালে বারবার ধোবার পরেও শাড়ির রং ফিকে হয়ে যাবে না।

৩. বাইরে থেকে আসার পরে অনেকের শাড়ি ধুতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু গায়ের ঘাম শাড়িতে লেগে থাকলে পরবর্তী কালে শাড়ির ক্ষতি হয়। তাই বাড়ি ফিরে এসে যদি শাড়ি ধুতে ইচ্ছে না করে তাহলে জলে অল্প রিঠা মিশিয়ে শাড়ি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে মেলে দিন শুকোবার জন্য।

এতে শাড়ি অনেকদিন অবধি ফ্রেশ এবং ভালো থাকে।

৪. সুতির শাড়ি প্রতিবার ধুতে যাওয়ার সময় অবশ্যই তাতে হালকা করে মাড় দেওয়া দরকার। এক্ষেত্রে বলে রাখি সুতির শাড়িতে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে না চাইলেও আপনি শ্যাম্পু দিয়েও ধুতে পারেন। শাড়ির ঔজ্জ্বল্য ফেরাতে পাঁচ লিটার পানিতে পাঁচ চামচ সাদা ভিনিগার মিশিয়ে নিন।

এই দ্রবণে ৪-৫ মিনিট শাড়ি ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে হালকা হাতে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। তোয়ালেতে শাড়িটা চেপে পানি শুষে ছায়ায় মেলে দিন।

৫. এছাড়া সুতির শাড়ি প্রতিবার পরার পর আয়রণ করে নেবেন। সুতির শাড়ি হালকা মাড় দিয়ে ইস্ত্রি করলে ভালো থাকবে। নেট, সিল্ক, টিস্যু আর জরির কাজের শাড়ি আলমারিতে ঠেসে ঠেসে রাখবেন না বা হ্যাঙারে ঝোলাবেন না। তাতে জরির কাজ, এমব্রয়ডারি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ

সিল্কের শাড়ির যত্ন 

প্লাস্টিকের ব্যাগে শাড়ি রাখলেও সূক্ষ্ম কাজগুলো কালচে হয়ে যাবে। আলমারিতে নরম কাপড়ে ঢেকে রাখুন এ ধরনের শাড়ি। বেনারসি, তসর এবং সিল্ক শাড়িও এভাবেই রাখবেন। আয়রণ করার পর উল্টো পাশে হালকা পাউডার ব্যবহার করলে সুন্দর ঘ্রাণ আসবে আপনার শাড়ি থেকে। এই পদ্ধতি প্রতিবার করলে অনেকদিন অবধি আপনার শাড়ি ভালো থাকবে।

৬. হ্যাঙারে দুটো শাড়ি একসাথে রাখবেন না। শাড়ির উপর নরম সুতির কাপড় রেখে মাঝারি তাপে উল্টো দিক থেকে ইস্ত্রি করুন। শাড়ির উপর সরাসরি সুগন্ধি স্প্রে করবেন না। এতে শাড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৭. যেসব দামি শাড়ি সবসময় পড়া হয়না সেগুলো একই ভাঁজে দীর্ঘদিন থাকলে ভাঁজের অংশ ফেটে যেতে পারে। তাই মাঝে মাঝে শাড়ি রোদে দিয়ে ভাঁজ পাল্টাবেন। দামি শাড়িতে যতটা পারবেন ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন না। সুতি শাড়ি ছাড়া সব শাড়ি ড্রাইওয়াশ করবেন।

শাড়ি ধোয়ার সময় ব্রাশ দিয়ে বেশি ঘষাঘষি করবেন না। শাড়িতে তরকারির দাগ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ট্যালকম পাউডার বা লেবুর রস কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। অনেকদিন ব্যবহারে যদি শাড়ি নরম হয়ে যায় তাহলে কাটা করিয়ে নিন।

সুতি শাড়ি কিনুন এখান থেকে

৮. স্টিলের আলমারিতে যেন মরিচা না পড়ে, তাতে শাড়ি নষ্ট হয়। কাঠের আলমারিতে শাড়ি রাখলে তা মাঝে খেয়াল করতে হবে আলমারি ঘুণে ধরেছে কি-না, নতুবা শাড়ি কেটে যেতে পারে। জর্জেট ও শিফন শাড়ি ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন, চিপবেন না, শুকালে শাড়ি রোল করে রাখুন, পারলে এই শাড়িগুলোতে নিম পাতা বা কালো জিরা দিয়ে রাখবেন।